জেনে নিন প্রস্রাব হলুদ হলে কি খাওয়া উচিত
- আপডেট সময় : ০৩:৫০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
নানাভাবেই আমরা দেহের বিভিন্ন ধরনের রোগ নির্ণয় করে থাকি। তার মধ্যে অন্যতম দুটি মাধ্যম হচ্ছে ইউরিন এবং রক্ত পরীক্ষা। আজকে আমি আপনাদের মানুষকে জানাবো প্রস্রাব হলুদ হলে কি খাওয়া উচিত। এই ধরনের সমস্যায় আমাদের প্রায়ই পড়তে হয়। হতে পারে এটি কোন অসুখের লক্ষণ অথবা সাময়িক শারীরিক সমস্যা।
চলুন শুরুতেই জানি কি কি কারণে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যদি দেহের ইউরিনের কালার স্বাভাবিক থাকে তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি শরীর অনেকটাই রোগমুক্ত অবস্থায় রয়েছে। কারণ ডাক্তাররা বিভিন্ন নির্নয় করার জন্য ইউরিন নানাভাবে পরীক্ষা করে থাকেন। যদি প্রাথমিক অবস্থায় কোন ধরনের কারণ ছাড়াই ইউরিনের রং হলুদ দেখতে পান তাহলে আপনার প্রথম কাজ হচ্ছে স্বাভাবিক পানি পান করা। কিন্তু বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও যদি এটি স্বাভাবিক রঙে ফিরে না আসে তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রস্রাবের রং হলুদ হওয়ার কারন কি
ডিহাইড্রেশন
সারাদিন রোদে ঘুরছেন অফিসে কাজ করছেন কিন্তু পানি পান করেছেন না এমতাবস্থায় আপনার ডিহাইড্রেশন হতে পারে। এ কারণে প্রস্রাবের রং হলুদ হলে কি খাওয়া উচিত তার উত্তরে বলব স্যালাইন অথবা পানি। এক্ষেত্রে অবশ্যই সঠিক নিয়ম মেনে চলবেন।
হেপাটাইটিস
অনেক সময় এই অসুখটির কারণেও আমাদের প্রস্রাবের রং হলুদ হতে পারে। যদি লিভার ফুলে যায় তাহলে হেপাটাইটিস হয়ে থাকে এবং এর ফলে ইনফেকশনও হতে পারে। বেশি পরিমাণে অ্যালকোহল গ্রহণ করলেও হেপাটাইটিস রোগ হতে হবে। যদি এটা ধরা পড়ে তাহলে দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
জন্ডিসের আক্রান্ত হলে
জন্ডিস রোগের অন্যতম একটি নক্ষত্র হচ্ছে প্রস্রাবের রং হলুদ। কারণ এই অসুখ হলে আমাদের লিভারের বিলরুবিন বের হয়ে যায়। তাই এই ধরনের সংকেত দেখলে অবশ্যই ডাক্তার দেখানো উচিত।
উপরোক্ত কারণগুলো ছাড়াও লিভার সিরোসিস, কিডনি স্টোন ইত্যাদি এই কারণেও আমাদের ইউরিনের রং পরিবর্তন হতে পারে। তবে এটা যদি হঠাৎ এ দেখা যায় তাহলে ঘাবড়ে না গিয়ে পানি পান করুন। আর যদি নিয়মিত এই ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকে তাহলে দ্রুত হাসপাতালে যান।
প্রস্রাবের রং হলুদ হলে কি খাওয়া উচিত
আমরা ইতিমধ্যে কারণগুলো তো জেনে গিয়েছেন। এবার চলুন এরপর করণীয়গুলো সম্পর্কে জানি।
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন
সবার আগে বিশুদ্ধ খাবার পানি অথবা স্যালাইন খেতে পারেন। এগুলো ছাড়া অন্য কোন ধরনের শরবত কিংবা কোমল পানীও খাওয়া উচিত নয়। তাছাড়া একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন। যত বেশি ঘাম হবে পানিও তত ঘনঘন পান করবেন।
পুষ্টি ও জল সমৃদ্ধ খাবার খান
আমাদের দেশে গ্রীষ্মকাল ও বছরের প্রায় সবসময়ই তরমুজ সহ নানা ধরনের ফল পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শসা, কমলা, আনারস, স্ট্রবেরি, লাউ ইত্যাদি। এগুলো আমাদের শরীরে ডিহাইড্রেশনের মাত্রা কমায়।
বিভিন্ন ধরনের পানীয়
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে লেবুর শরবত তবে অবশ্যই চিনি ছাড়া, ওর স্যালাইন, ডাবের পানি। একদিকে আপনাকে যেমন গরমের শাস্তি দিবে ঠিক তেমনিভাবে শরীরে পানির চাহিদা পূরণ করবে।
ফলমূল শাকসবজি
পুষ্টের সমৃদ্ধ ফল মূল শাকসবজি আপনাকে অনেক বেশি সুস্থ রাখতে পারে। অতিরিক্ত চা, কফি, ক্যাফেইন, উচ্চ প্রোটিন যুক্ত খাবার সম্ভব হলে এড়িয়ে চলুন। এগুলোর কারণেও আমাদের ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এগুলো ছাড়াও কার্বোনেট, ড্রিঙ্কস, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যুক্ত খাবার ইত্যাদি গুলো এড়িয়ে চলতে হবে। সেই সাথে খেতে হবে হালকা খাবার। এর মধ্য রয়েছে স্যুপ, খিচুড়ি, ওটমিল ইত্যাদি। এই খাবারগুলি আমাদের দেহ খুব দ্রুত গ্রহণ করতে পারে অর্থাৎ সহজপাচ্য।
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কর্ম কিংবা বাসার পরিবেশ। যদি অফিসের পরিবেশে অনেকবেশি ঘামেন তাহলে ফ্রেন্ড কিংবা অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। একই থেকে বাসার পরিবেশ এমন ভাবে তৈরি করুন যাতে করে ভেতর দিয়ে আলো বাতাস করতে পারে। কম পরিমাণে ঘামবেন আপনার দেহের ডিহাইড্রেশন হওয়ার সম্ভাবনাও তত কমে যাবে। আবার যারা কিনা তাদের সাথে যুক্ত আছেন তাদেরও প্রস্রাব হলুদ হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার ডায়েটিশিয়ানের সাথে পরামর্শ করুন।
আবার যারা কিনা খুব সকালে অফিসে যান কিংবা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা সকালের নাস্তা করার সময় পান না। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ইউরিন ইনফেকশন হতে পারে। তাই যতটুকু সম্ভব সকাল বেলা খেতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় গ্রহণ করতে হবে।
আশা করি আপনারা প্রস্রাবে রং হলুদ হলে কি খেতে হয় সেগুলো সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পেরেছেন। আপনার পরিবারের অন্যান্য সদস্য গুলির সাথে আলোচনা করুন। যাতে করে তারা সচেতন হতে পারে এবং সকল ধরনের অসুখ বিসুখ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে।















