তারাবির নামাজে কোন সূরা পড়তে হয় জেনে নিন সঠিক সূরা সমূহ
- আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫ ৮২ বার পড়া হয়েছে
আসসালামুয়ালাইকুম বন্ধুরা, রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো তারাবির নামাজ। অনেকেই জানতে চান, তারাবির নামাজে কোন সূরা পড়তে হয়? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেতে হলে আমাদের কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিষয়টি বুঝতে হবে। তারাবির নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ইবাদত, যা মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে মনে করেন, তারাবির নামাজে সম্পূর্ণ কুরআন খতম করা বাধ্যতামূলক। আসলে এটি সুন্নাহ হলেও ফরজ নয়। তাহলে, তারাবির নামাজে কোন সূরা পড়া উত্তম? আসুন জেনে নিই।
তারাবির নামাজে কোন সূরা পড়তে হয়?
তারাবির নামাজে নির্দিষ্ট কোনো সূরা বাধ্যতামূলক নয়। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত দীর্ঘ সূরা পড়তেন। যদি পুরো কুরআন খতম সম্ভব না হয়, তাহলে ছোট সূরা পড়েও তারাবির নামাজ আদায় করা যায়। অনেকে তারাবিতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর দীর্ঘ সূরা পড়েন, আবার কেউ ছোট সূরা পড়েন। আপনার সুবিধামতো যে কোনো সূরা পড়তে পারেন।তবে, দীর্ঘ সূরা পড়ার সময় খুশু-খুযু ধরে রাখা জরুরি।
তারাবির নামাজের নিয়ম
তারাবির নামাজ নফল ইবাদত, যা সাধারণত এশার নামাজের পর পড়া হয়। এটি ৮, ১২, বা ২০ রাকাতে আদায় করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ৮ রাকাত পড়তেন, তবে সাহাবারা ২০ রাকাতও পড়েছেন। আপনি যদি একা পড়েন, তাহলে কুরআন খতম করা বাধ্যতামূলক নয়। ছোট ছোট সূরা পড়েও আপনি সহজে তারাবির নামাজ আদায় করতে পারেন।
তারাবির নামাজের কুরআন খতম করা কি আবশ্যক?
অনেকেই মনে করেন, তারাবির নামাজে পুরো কুরআন খতম করতে হবে। আসলে এটি সুন্নাত, তবে ফরজ নয়। নবী (সা.) কখনো কখনো দীর্ঘ কিয়াম করতেন এবং বড় সূরা পড়তেন।কিন্তু কেউ যদি কুরআন খতম করতে না পারেন, তাহলে ছোট সূরাও পড়া যায়। যদি আপনি মসজিদে জামাতে নামাজ পড়েন, তাহলে ইমামের অনুসরণ করাই উত্তম। আর যদি বাড়িতে পড়েন, তাহলে সংক্ষেপেও পড়তে পারেন।
সূরা তারাবির সূরা সমূহ এবং তারাবির নামাজে ছোট সূরা পড়ার নিয়ম
অনেক সময় দীর্ঘ কিয়াম কষ্টকর হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে ছোট সূরা পড়ার মাধ্যমে তারাবির নামাজ পড়া যায়।
যেমন:
- সূরা আযযালযালাহ
- সূরা আল-আদিয়াত
- সূরা আল-কাউসার
- সূরা আল-ইখলাস
- সূরা আল-ফালাক
- সূরা আন-নাস
এই সূরাগুলো পড়লে তারাবির নামাজ সহজ হয় এবং ধীরস্থিরভাবে নামাজ পড়া সম্ভব হয়।
তারাবির নামাজ কত রাকাত?
এই বিষয়ে বিভিন্ন মাজহাবের মতামত রয়েছে। হানাফি মাজহাবে ২০ রাকাত পড়া সুন্নাত। শাফেয়ী, মালিকি ও হাম্বলি মাজহাবে ২০ রাকাত তারাবি পড়ার প্রচলন রয়েছে।তবে, অনেক হাদিসে ৮ রাকাত পড়ার কথাও বলা হয়েছে।সুতরাং, আপনি নিজের শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী ৮, ১২, বা ২০ রাকাত পড়তে পারেন।
তারাবির নামাজের দোয়া ও আমল
তারাবির নামাজের পর বিশেষ কিছু দোয়া পড়া উত্তম। নবী (সা.) রাতে বেশি বেশি ইস্তেগফার করতেন এবং তাহাজ্জুদ পড়তেন। আপনিও এই সুন্নাহ অনুসরণ করতে পারেন।তারাবির পর আপনি এই দোয়াটি পড়তে পারেন:
اللهم اجعلنا من المقبولين واغفر لنا ذنوبنا يا أرحم الراحمين
উচ্চারণ:
“আল্লাহুম্মাজআলনা মিনাল মাকবুলিন, ওয়াগফির লানা জুনুবানা, ইয়া আরহামার রাহিমিন।”
অর্থ:
হে আল্লাহ, আমাদের কবুল করুন এবং আমাদের গুনাহ মাফ করুন, আপনি তো পরম দয়ালু।
আমার শেষ কথা
তারাবির নামাজ রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে, তারাবির নামাজে কোন সূরা পড়তে হয়? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো, নির্দিষ্ট কোনো সূরা বাধ্যতামূলক নয়।
কেউ চাইলে দীর্ঘ সূরা পড়তে পারেন, আবার কেউ ছোট সূরা পড়লেও নামাজ হবে। আপনার জন্য যা সহজ, তাই পড়ুন।গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খুশু-খুযুর সাথে নামাজ আদায় করা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তারাবির নামাজ পড়ার তৌফিক দান করুন।আমিন।
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস কি এবং এলপিজি গ্যাস কে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বলা হয় কেন? বিস্তারিত জানতে চাইলে এইখানে যান।














